জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:

কক্সবাজারের টেকনাফে আদরের বড় মেয়েকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক বাবা। ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মেয়ে তাসমিন জান্নাতের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভুলতে পারছেন না। ঘাতক গাড়ি ও চালকের বিচারের দাবিতে প্রতিবন্ধী বাবা আব্দুল মান্নান প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন।

এদিকে ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করা গেলেও নানা কারণে চালক ও গাড়িটির বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই সকালে হোয়াইক্যংয়ের নয়াপাড়ায় ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় রঙ্গিখালী গাজীপাড়ার বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নানের মেয়ে তাসমিন জান্নাতকে টেকনাফগামী একটি বেপরোয়া ও দ্রুতগতির মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-২৯০৪) পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় তাসমিন জান্নাত গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উনছিপ্রাং হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে কুতুপালংয়ের একটি এনজিও হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাসমিনকে চট্টগ্রামের সার্জিস্কোপ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সার্জিস্কোপ হাসপাতাল থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২৯ জুলাই তাসমিন জান্নাত মারা যান।

পরিবারের বড় মেয়েকে হারিয়ে মা-বাবা দুজনই শোকে কাতর। ছোট বোন মুসলিমা জান্নাত, সুমাইয়া জান্নাত ও একমাত্র ভাই মুহাম্মদ আল আমিনের কান্নাও থামছে না।

তাসমিন জান্নাতের ছোট বোন মুসলিমা জান্নাত বলেন, “এত অল্প বয়সে বড় বোনকে হারাব—এটা কখনো কল্পনাও করিনি। ঘাতক গাড়িটি আমার বোনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আমি ঘাতক গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

মেয়ে হারানোর পর থেকে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন প্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নান। গত দুই মাস ধরে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না তিনি। ঘাতক গাড়ি ও চালককে আইনের আওতায় আনতে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. নুরুল আবছার জানান, উল্লেখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ গাড়িটি শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গাড়িটি শনাক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, তাসমিন জান্নাত রঙ্গিখালী দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসার আওতাধীন একটি নুরানি মাদরাসার ছাত্রী ছিল। সে সাবেক ব্যাংকার মাস্টার মুহাম্মদ ইসমাইলের ছেলের ঘরের বড় নাতনি।